বঙ্গ-রাজনীতির নয়া ট্রেন্ড – ‘পুলিশ পেটাই’

Please follow and like us:
0

রোজনামচা প্রতিবেদনঃ অতীতে চেনা পুলিশ আর অচেনা পুলিশে কোনো ফারাক ছিল না সাধারণ মানুষের কাছে। বর্তমানে কী রাজ্য, কী কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে আম-আদমির সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক স্থাপনে নেওয়া হচ্ছে একাধিক উদ্যোগ। একেক-এক স্তরে একেক রকম হলেও পাড়ার রক্তদান শিবিরে স্থানীয় থানা ওসির উপস্থিতি থেকে শুরু করে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য স্থায়ী আবাস, সবেতেই আইনরক্ষক পুলিশ এখন আগের তুলনায় অনেকটাই সামাজিক, মানবিকও বটে।

এই তো কয়েক মাস আগেই উত্তরবঙ্গে পুলিশের উদ্যোগে ‘ট্যালেন্ট হান্টে’র প্রতিযোগিতা আয়োজন অন্য এক নজির গড়ে ফেলেছিল। তবুও পুলিশ মানেই পুলিশ, সরকারি যন্ত্র। তাই তখন হোক বা এখন, পুলিশকে আক্রমণের মুখে পড়তেই হয় বিরোধী রাজনৈতিক দলের সামনে। কারণ বা হেতু যাইহোক না কেন, সরকারের বিরুদ্ধে যাবতীয় কর্মকাণ্ডের মাধ্যম যেহেতু পুলিশ দিয়ে ঠেকানোই কাম্য, সেখানে রাজনৈতিক দলগুলিকেও দোষ দিয়ে লাভ নেই। তবুও কোনো পুলিশ কর্মীও যে কারো বাবা, কাকা, মামা, পিসেমশাই- সে কথা ভাবতে যেন এখনও পর্যন্ত কেমন একটা অ্যালার্জির উপদ্রব হয়। শুধু যুগ বদলায়, পাল্টে যায় সরকার।

সাতের দশকে পশ্চিমবঙ্গে একটা স্লোগানের খুব চল ছিল- ‘পুলিশ তুমি যতই মারে, মাইনে তোমার একশো বারো’। মাইনে তুলে সেই তিরস্কার ক্রমশ বিলীন হতে বসেছে। উল্টে শুরু হয়েছে পুলিশকে পেটানি দেওয়ার শাসানি। গত শনিবার বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, ‘২০১৯-এ দিদি নয়, দাদার পুলিশ ভোট করাবে’। তার মানে পুলিশের অবস্থা সেই ‘যে চায়, সেই পায়’-এর মতো। তবে শুধু এই পরিশীলিত ব্যাখ্যা নয়, প্রায়শই পুলিশকে পেটানোর নিদান দিয়ে চলেছেন বিজেপির নেতারা।

সম্প্রতি ইসলামপুরে ছাত্র খুনের ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে পুলিশের দিকে। বিজেপির-ই উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতি শংকর চক্রবর্তী গ্রামবাসীদের উদ্দেশে পুলিশ পেটানোর নিদান দিয়ে বর্তমানে জেলে। শুধু পুলিশ পেটানো নয়, পুলিশের ছেলে-মেয়েদের টেনে নিয়ে এসেছেন রাজনৈতিক আক্রমণের ময়দানে। তিনি বলেছেন, ‘রাস্তায় যদি দেখেন কোনো কুকুর দুর্ঘটনায় আহত হয়ে পড়ে রয়েছে, তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাবেন। কিন্তু কোনো পুলিশের ছেলে-মেয়ে পড়ে থাকলে তাকে নিয়ে যাবেন না’। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ জারি রয়েছে। এরই মধ্যে ঘটে গেল আরো একটি ঘটনা।

শনিবার সন্ধ্যায় বর্ধমানের পার্বতী মাঠে দলীয় সভা ছিল বিজেপির। সেখানে যোগ দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্যের আগে ভাষণ দেন জেলা যুব মোর্চা সভাপতি শ্যামল রায়। তিনি বলেন, ‘লড়াই করুন। সামনে পুলিশ আসুক আর তৃণমূল আসুক লাঠি মারুন। মাথা ফাটান। বোম মারুন। পুলিসকে বলুন চামচেগিরি করতে।’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘কেস খাবার ভয় পাবেন না। লড়াই জারি রাখুন। আহত হলে হাসপাতালে যাবেন।’

অর্থাৎ, পুলিশ যেহেতু সরকারি যন্ত্র তাই সেই যন্ত্রকেই বিকল করে সরকারি মসনদ দখল করার চরম প্রবণতা। এ ভাবেই হয়তো চলবে গণতান্ত্রিক দেশের গণতন্ত্রের লড়াই! পুলিশ কি থেকে যাবে পুলিশেই?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *