এ বার দেওয়ালশ্রী

Please follow and like us:
0

রোজনামচা প্রতিবেদন‌ঃ একটা সময় ছিল যখন বাংলায় দেওয়াল লিখন ছিল একটা সংস্কৃতি। সে সময় দেওয়াল লিখনের মধ্যে দিয়ে এক দিকে যেমন রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া যেত তেমনই দেওয়ালের লিখন ছিল মনোরঞ্জনেরও উপকরণ। এখন যেমন দেওয়ালে লেখা নিয়ে নিয়মকানুন হয়েছে, তেমনই ফেসবুকের ওয়াল কেড়ে নিয়েছে ঘরবাড়ির দেওয়াল।

সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা খবর দেখেই চোখ আটকালো। রাজ্য জুড়ে দলীয় কর্মীদের নাকি তৃণমূলনেত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, দেওয়াল লিখনের সংস্কৃতি আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে। তা তা ওই সব আইন মেনেই। যেখানে দেওয়াল লিখন বারণ সেখানে তুলি ছোঁয়ানো যাবে না। কিন্তু যেখানে লেখার অনুমতি মিলবে , সেখানে দেওয়াল লিখে সহজেই অংশ নেওয়া যাবে এক অভিনব প্রতিযোগিতায়। সেই লেখায় যেমন থাকতে হবে স্লোগান, কার্টুন- তেমনই থাকতে হবে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য দিকগুলোও। ওই দেওয়াল লিখনের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে থেকে সেরা লিখিয়ের নির্বাচনে গঠিত হয়েছে জেলাভিত্তিক স্ক্রিনিং কমিটিও।

ভালো দিক তো বলতেই হবে। দলীয় কর্মীদের উৎসাহ দেওয়া যাবে তেমনই দলের প্রচারেও আসবে অভিনবত্ব। আবার একই সঙ্গে লুপ্তপ্রায় সংস্কৃতিটাকেও জাগিয়ে তোলা যাবে। গেঁজেলরা অবশ্য বলছে, এই ধরনের প্রতিযোগিতা শুরু হলে দিকে দিকে  দেওয়াল লেখা শেখানোর স্কুলও তৈরি হতে পারে। সেখানে যত্ন করে দেওয়াল লেখা শেখানো হবে। আবার ওই সব কাল্পনিক স্কুলে একটা অংশের কর্মসংস্থানো হতে পারে। গেঁজেলদের এই কথা তাঁদের কাছেই থাকুক, কিন্তু পাড়ায় পাড়ায় ফ্লেক্স ছাপার কল যে ভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে তা তে হাতে লেখা সাইনবোর্ড থেকে শুরু করে ব্যানার লেখার কাজে যাঁরা যুক্ত ছিলেন, তাঁরা এক প্রকার কর্মহীন। ফলে এটা খুবই গুরুগম্ভীর বিষয়ের মধ্যেই পড়ে।

এ ব্যাপারে সংবাদ পরিবেশন করে এক মিডিয়া অবশ্য লিখেছে, “দেওয়াল লিখনের এই বিশেষ ঘোষণা কারণ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার বেড়ে যাওয়ায় দেওয়াল লিখনের চল কমে যাচ্ছে। তারপর রয়েছে ব্যানার-ফেস্টুন এবং ডিজিটাল প্রচার। দেওয়াল লিখনের কাজে দলীয় কর্মীদের এবং শিল্পীদের উৎসাহ বাড়াতে দক্ষ করে তুলতে জেলায় প্রতি বুথ এলাকায় দেওয়াল লিখন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জেলার প্রতিটি বুথ এলাকায় কমপক্ষে ৩০টি করে দেওয়াল লিখতে হবে। তবে নতুন রং করা বাড়ির দেওয়াল, সরকারি দেওয়ালে লেখা যাবে না। এ ব্যাপারে কড়া সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছে”।

এটাই বা কম কীসে, আরও একটা পুরস্কার তো পেতে চলেছে বাংলা!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *