ভোট দিন, প্রাইজ নিন

Please follow and like us:
1

রোজনামচা প্রতিবেদন‌ঃ ভোটাররা ভোট দেন। নতুন নতুন বিধায়ক-সাংসদ পায়। ভোটের আগে অবশ্য তাঁরা প্রচারে বেরিয়ে হরেক রকমের প্রতিশ্রুতি দেন। ভোটে জিতে গিয় পদ হাসিল করার পর সেই প্রতিশ্রুতির কতটা রক্ষা করেন, সেটা ভোটাররা হিসাবে করেন পরের ভোটটা না আসা পর্যন্ত। পরের ভোটটা এলেই আবার নতুন প্রতিশ্রুতির পালা। তবে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, তা পালন করার নজির গড়েই এ বার ভোট দিন প্রাইজ নিন-এর বন্দোবস্থ করছে তেলঙ্গানার একটি জেলা প্রশাসন।

চলছে ৫ রাজ্যের বিধানসভা ভোট। সেখানে জমে উঠেছে প্রচারযুদ্ধ। ছত্তীশগঢ়ের দু-দফার ভোট হওয়ার পর এখনও হাতে আছে মিজিরোমা, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং তেলঙ্গানা।  আগামী ৭ ডিসেম্বর এক দফায় ভোট গ্রহণ তেলঙ্গনায়। ১১৯ আসনের বিধানসভায় এ বার শক্তপোক্ত ত্রিমুখী লড়াই হতে চলেছে এই নির্বাচনে।  রাজ্যের শাসকদল তেলঙ্গনা রাষ্ট্র সমিতি (টিআরএস), বিরোধী দল বিজেপি, কংগ্রেসের মহাজোটই মূল প্রতিপক্ষ। কংগ্রেসের সঙ্গে থেকে টিডিপি, টিজেএস বা সিপিআই-ও শক্তি জাহির করতে প্রচার তুঙ্গে তুলছে । একই ভাবে ভোটারদের মধ্যে ভোট দেওয়ার প্রবণতাকেও সপ্তমে নিয়ে যেতে প্রশাসনের তরফে নেওয়া হয়েছে চমকপ্রদ উদ্যোগ। যার মধ্যে রয়েছে লাকি ড্রয়ের মাধ্যমে মোটর বাইক, স্কুটার বা মোবাইল ফোন জেতার হাতছানি।

তেলঙ্গনার সিদ্ধিপেত জেলা প্রশাসন ভোটারদের আগ্রহ বাড়াতে এ ধরনেরই লাকি ড্রয়ের ঘোষণা করেছে। জেলাশাসক ডি কৃষ্ণা জানিয়েছেন, পোলিং বুথের মাধ্যমে এই লাকি ড্রয়ের ব্যবস্থা করা হবে। অর্থাৎ, ভোট দিতে এসে রাজনৈতিক দলের ভাগ্য নির্ধারণের পাশাপাশি তাৎক্ষণিক ভাবে নিজের ভাগ্যও যাচাই করে নেওয়ার সুযোগ পাবেন ভোটার।

তবে এ ধরনের উদ্যোগ এই প্রথম নয়। ২০১৪ সালের তেলঙ্গনা বিধানসভা নির্বাচনেও একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন তৎকালীন জেলাশাসক স্মিতা সাভরওয়াল। তখনও ভোটারদের মধ্যে লাকি ড্রয়ের আয়োজন করে ভোটের হার ১০০ শতাংশে পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি।

রাজনৈতিক ভাবেও সিদ্ধিপেতের ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। এই জেলাতেই টিআরএসের প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কেয়ারটেকার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের ভাইপো কে হরিশ রাও। এবং এই জেলারই গজবেল কেন্দ্র থেকে লড়ছেন  চন্দ্রশেখর নিজেও।

জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ভোটের দিন কুপন তুলে দেওয়া হবে ভোটারদের হাতে। পুরুষ এবং মহিলাদের জন্য পৃথক ভাবে লাকি ড্র হবে। সেখান থেকেই বেছে নেওয়া হবে মোটর বাইক এবং স্কুটার বিজেতাদের। তবে মোবাইল ফোন দেওয়া হবে প্রতিটি বিধানসভার পাঁচ জন ‘ভাগ্যবান’ ভোটারকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *