ভোটে নেতা ছিলেন, আসছেন নেতাজিও

Please follow and like us:
0

রোজনামচা প্রতিবেদন‌ঃ হিন্দিভাষী এলাকায় বড়ো নেতাকে ‘নেতাজি’ বলে সম্বোধনের চল বহুদিনের। তবে বাংলায় নেতাজি বলতে একজনই। তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। বর্তমান রাজনীতিতে সশরীরে উপস্থিত না থেকেও তিনি আছেন বৃহত্তর রাজনৈতিক অঙ্গনে। প্রায়শই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রচারে তিনি স্থান করে নেন। এক বর্ষীয়ান সাংবাদিকের কাছে শোনা, সাতের দশকেও বঙ্গের এক নেতাজি অনুগামী নেতা বলতেন, তাঁর সঙ্গে না কি গভীর রাতে নেতাজির কথা হয়। ফোনে দু-জনের আলোচনায় উঠে আসে ভবিষ্যৎ রাজনীতির বহুবিধ বিশ্লেষণ।

তা ওই নেতা বর্তমানে জীবিত না থাকলেও নেতাজিকে নিয়ে নেতাগিরি করার লোকের অভাব নেই। বিশেষ করে এ বার লোকসভা ভোটের কয়েক মাস আগে থেকেই নেতাজিকে নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের গভীর চিন্তা এবং পরিকল্পনা ব্যাপক হারে বাজারে উঠে এসেছে।

কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি কংগ্রেস জমানায় নেতাজির প্রতি অবহেলাকে হাতিয়ার করে ইতিমধ্যেই একাধিক কর্মসূচি পালন করেছে। হাতে আছে আরও বেশ কয়েকটি। বিশেষ করে ২৩ জানুয়ারি নেতাজির জন্মদিনের আগে-পরে বেশ কিছু বিশেষ কর্মসূচি নিতে পারে বিজেপি। সামনে থাকবে অবশ্যই কেন্দ্রের বিজেপি সরকার।

লোকসভা ভোট এগিয়ে আসতেই নেতাজির সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিজেপি রাজনীতি করছে বলে যে কারণে অভিযোগ তুলেছে বিরোধী দলগুলি। বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসও যথেষ্ট সক্রিয় এই ধরনের অনুষ্ঠান নিয়ে। তবে বিজেপির পাশাপাশি তৃণমূলকেও বিড়ম্বনায় ফেলতে চলেছ সিপিএম-সহ বামপন্থী দলগুলি।

বেশ কয়েক দশক ধরেই নেতাজির জন্মদিনটিকে ‘দেশপ্রেম দিবস’ হিসেবে ঘোষণার দাবি তুলে আসছে বামপন্থীরা। তবে কেন্দ্র সরকারের থেকে সেই দাবির অভিমুখ এ আর ভিন্ন মুখেও উঠতে চলছে। অর্থাৎ, কেন্দ্রের পাশাপাশি বামপন্থী দলগুলি রাজ্য সরকারের প্রতিও একই দাবিতে সরব হচ্ছে।

সিপিএমের পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী বিধানসভায় জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার দিনটিকে দেশপ্রেম দিবস হিসাবে ঘোষণা করুক। এই দাবির উপর আলোচনার জন্য প্রস্তাবও জমা দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে সুজনবাবু লিখেছেন, কেন্দ্র যাতে এই দিনটিকে দেশপ্রেম দিবস হিসাবে ঘোষণা করে সে ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী উদ্যোগ নিন। একই সঙ্গে এ ব্যাপারে নয়াদিল্লিতে সর্বদলীয় বৈঠকের কথা জানানো হয়েছে বামেদের তরফে।

পাশাপাশি সুজনবাবু বলেন, ২০১১ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এ রাজ্যে ২৩ জানুয়ারি দেশপ্রেম দিবস হিসেবে পালনের সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। কিন্তু তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরই সেই আদেশ আর কার্যকর করা হচ্ছে না।

এখন দেখার, বিজেপির রামনবমীর অথবা  রথযাত্রার পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস যেমন জোরালো কর্মসূচির উদ্যোগ নিয়েছে, নেতাজিকে নিয়ে তারা কী করতে চলেছে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *