কর্পোরেশনে ক্রসভোটিং!

Please follow and like us:
0

রোজনামচা প্রতিবেদন‌ঃ নির্ধারিত নির্ঘণ্ট মতো আগামী ৩ ডিসেম্বর কলকাতা পুরসভার মেয়র পদের নির্বাচন। এক দিকে তৃণমূল প্রার্থী ফিরহাদ হাকিম। অন্য দিকে বিজেপির মীনা দেবী পুরোহিত। এক দিকে তৃণমূলের ১২২ জন কাউন্সিলার। অন্য দিকে মাত্র ৫ জন বিজেপি কাউন্সিলার। ভোটের ফলেও কি তাই হবে না কি গুনতির পর কয়েকটা সংখ্যা এ দিক – ও দিক হবে? তেমন প্রশ্নই খুঁজছে উত্তর। আর কেউ কেউ শীতের শুরুতে বাজার গরম করতে জল্পনার জাল বিচোচ্ছে। যা শুনে কেউ হাসছে আবার কেউ বা হাসতে হাসতে কেঁদেও ফেলছে।

মেয়র পদে ভোটের আগে কাউন্সিলারদের সঙ্গে বৈঠকে বসল তৃণমূল। একই ভাবে গত সপ্তাহেও তাঁদের নিয়ে আলিপুরে বৈঠকে বসেছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে বার ছিল সর্বসম্মতিক্রমে মেয়র পদে রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের নাম প্রস্তাব এবং সমর্থন। কিন্তু শুক্রবার আচমকা কেন পুরসভায় কাউন্সিলরদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসল তৃণমূল?

সংবাদ মাধ্যমের আতসকাচ ধরছে সেই বৈঠকের ফাঁকফোঁকর। খোঁজ চলছে হরেক সূত্রের। যদিও চেয়ারপার্সন মালা রায় স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিয়েছেন, ‘‘কাউন্সিলররা সঠিক সময়ে যাতে উপস্থিত থেকে এই ভোট গ্রহণ অংশ নেন তার জন্যই এই বৈঠক।’’  অর্থাৎ, সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদ মাধ্যমে জলঘোলা হওয়া শুরু ক্রসভোটিংয়ের। তারা বলছে,  বিজেপি প্রার্থী মেয়র পদের লড়াইয়ে প্রার্থী দিতেই টনক নড়ে গেছে তৃণমূলের৷ এমনটাও জানা গেছে, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতার নির্দেশেই হয়েছে ওই বৈঠক।

কাউন্সিলাররা এই প্রথমবার ভোট দিতে যাচ্ছেন না। ফলে সময় সম্পর্কে তাঁরা যথেষ্ট ওয়াকি বহাল। তা হলে কেন সময় সম্পর্কে সচেতন করতে তাঁদের নিয়ে একেবারে বৈঠকের আয়োজন করার নির্দেশ দিলেন মমতা?  কলকাতা পুরসভার সঙ্গে মীনাদেবীর পরিচয় আজকের নয়। আবার তৃণমূলের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্কের কথা অবিদিত নয়। কারণ, সুব্রত মুখোপাধ্যায় মেয়র হলে তিনি ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব পালনও করেছেন। ফলে তৃণমূলের পুরনো কাউন্সিলারদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক একটু অন্য রকম।

সেই পুরনো সম্পর্কের সুতো ধরেই ঘুড়ি উড়বে মাঝ আকাশে। বিরোধী পক্ষ থেকে কটা ঘুড়ি কেটে তিনি নিজের বাক্সে ফেলতে পারেন, সে সব নিয়েও চলছে হাজারো জল্পনা। তিনি দাবি করেছেন, বিজেপি প্রার্থী দেওয়ায় তৃণমূল ভয় পেয়ে গেছে। আবার তিনি না কি মুচকি হেসে জবাবও দিয়েছেন, সবাইকেই ভোট দেওয়া আহ্বান জানিয়েছেন।

বি. দ্র- সেই হাসিতে চন্দ্রবিন্দু যোগ হলে ব্যাপারটা কী দাঁড়ায়, পাঠক নিজেই বুঝে নিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *