বুনিয়াদ

Please follow and like us:
1

অনিমেষ শাস্ত্রী

হিন্দিতে ‘বুনিয়াদ’ বলে একটি শব্দ আছে। আমরা অনেকেই এই শব্দ ব্যবহার করে থাকি। (বুনিয়াদ নামের এক সিরিয়াল দূরদর্শনের প্রথম দিকে খুব জনপ্রিয় হয়েছিল। মি টু-তে জড়িয়ে পড়া অলোকনাথ সম্ভবত ওই সিরিয়াল থেকেই জনপ্রিয় হয়েছিলেন। এই সিরিয়ালের ১০০ এপিসোডের পরিচালক ছিলেন শোলে-র রমেশ সিপ্পি) বুনিয়াদ শব্দের ঠিকঠাক বাংলা হলো ভিত্তি।
তোমাকে যদি কিছু কাজ করতে হয়, তবে প্রথমে তোমার যা লাগবে, তা হলো ভিত্তি। বা আধারও বলতে পারো। বা বলতে পারো ফাউন্ডেশন।
আমরা চাই না চাই, আমাদের জীবনের সব কিছুতে, মায় রান্নাঘরেও ঢুকে গেছে গেছে রাজনীতি। অনেকে এ নিয়ে হা-হুতাশও করে। কিন্তু রাজনীতির এমন সর্বগ্রাসী ভূমিকার কারণ কী?
কারণ এই সাবজেক্টের জনভিত্তি। জন এবং ভিত্তি। এই ভিত্তির জোরেই কিন্তু চলে রাজনীতি। কিন্তু জনভিত্তি তথা যে কোনও বিষয়ের ওপর নিজের অগাধ আস্থা তৈরি তো একদিনে হয় না। মমতা বা মোদীর জনভিত্তি একদিনে হয় নি।
একদিনে টাটা-বিড়লা-আম্বানীদের বানিজ্যের ভিত্তি হয় নি। পথের পাচাঁলি তৈরির আগে সত্যজিত রায় তার ফিল্মি বোধের ভিত্তি নির্মাণ করেছিলেন প্রচুর প্রচুর সিনেমা দেখে, সিনেমার ওপর বই পড়ে। এখন মেসি রোনাল্ডো, আগে মারাদোনা, বা তারও আগে যোহানক্রুয়েফ বা তারও আগে পেলে – ফুটবলের মহারথীদের প্র্যাকটিসের ভিডিও এখন সহজ-লভ্য। কীভাবে তারা ফুটবল বোধের ভিত্তি তৈরি করেছিলেন দেখে নিয়ে পারো।

ভিত্তি তথা বুনিয়াদ সবচেয়ে জরুরি। পৃথিবীতে যত বিশাল বিশাল মিনার আছে, বিল্ডিং আছে, প্রতিটির বুনিয়াদ তথা ফাউন্ডেশনও অত্যন্ত যত্নে করা। এবং মাটির নীচে বেশ গভীরে।
সুতরাং এই বুনিয়াদ প্রথমে তৈরি করতে হয়। এবং বলা বাহুল্য, যে কোনও দেশে সভ্য সমাজে বাল্যকালে বাচ্চাদের বুনিয়াদের প্রাথমিক পাঠ দেওয়া হয়।
আর এই প্রাথমিক পাঠের ফলেই সৃষ্টি হয় মানব সম্পদের বীজ। টেকনোলোজি যতই এগোক না কেন, শেষ বিচারে মানব সম্পদই আসল সম্পদ।
তবে মানব সম্পদের একটা ছোট বিপদও আছে। যন্ত্র খারাপ হলে, তাকে সারানো যায়। আর সারানো না গেলে, বাতিল বলে ফেলে দিতে হয়।
কিন্তু মানব সম্পদ যখন হয়ে ওঠে মানব-আপদ, তখন ভরসা দেশের সংবিধান বা আইন কানুন। আপনি আমি তো আইন হাতে নিতে পারি না। মানব আপদের দেখা আগে খবরের কাগজে পেতাম আমরা। টিভি এলে টিভিতে দেখলাম।
আর এখন সোস্যাল মিডিয়ার যুগ। নির্ভেজাল মূর্খ বুক ফলিয়ে নিজের জ্ঞান ফলায় ফেসবুকে। তাকে লাইক মারে ততোধিক মূর্খেরা। তুমি না চাইলেও তোমার ঘাড়ে এসে উৎপাত শুরু করে দিতে পারে এই মানব-আপদ বা শ্বাপদ।

তবে যাই হোক, আমাদের প্রত্যেকের বিত্তি তথা বুনিয়াদ কীভাবে হয়েছে, কোন পথে বেড়ে উঠেছি আমরা, তা একান্ত ভাবেই পরিবারের আওতায় হলেও পারিপার্শ্বিক সমাজও আসলে প্রভাব ফেলে জীবনে। তবে চরিত্রগত বুনিয়াদ ঠিক থাকলে অনেজ বিপত্তি শেষ পর্যন্ত কিন্তু জয় করা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *