ব্যক্তিগত নিবন্ধ —— বন্ধুর পথে বন্ধু সুমন — পর্ব-১

Please follow and like us:
0

সুমন ঘোষ

হাফ প‍্যাডেল থেকে ফুল প‍্যাডেল। তারপর কিছুদিন হাত পা কেটে ফেটে এক্কেবারে সীটে। এ গলি, সে গলি, ছোট মেজো রাস্তা হয়ে আর একটু হাত পাকিয়েই সোজা বড় রাস্তায়। তখন আর পায় কে ! বন্ধু অনি তখন শুধু হেঁটে বেড়ায়। আমার মতো আলগা স্মার্ট নয়। সামনের রডে অনিকে আর পিছনের ক‍্যারিয়ারে ঝুলন কে নিয়ে এলাকা ছেড়ে এ পাড়া, সে পাড়ায় প‍্যাডেল মেরে পাক খাওয়া আর পাক খেতে খেতেেই সীমাহীন আনন্দ কে ছুঁয়ে দেখা। বাড়ির সাইকেলেই নিজের গড়া পৃথিবী দর্শন। তখন আমার তৈরি জীবন ছুটছে আমারই পিছনে। আমার সব স্বপ্নের কারিগর তখন আমিই।
তারপর আমাকে বুঝতে না দিয়ে কখন না জানি জীবন ছুটতে লাগলো বাইকের গতিতে। হাওয়ার গতিকে পাল্লা দিয়ে বাইক ছুটছে আর বাইকের গতিতে তাল মেলাতে জীবনও ছুটছে । ছুটছে তো ছুটছেই। কিন্তু গতি ছোঁওয়ার অমোঘ নেশায়, হালকা হাওয়ায় সাইকেলের সওয়ার হয়ে রাস্তার বাঁকে বাঁকে জমে থাকা আনন্দ, কোথায় যে উধাও হয়ে গেল, উদাসী মন তার টেরই পেলোনা।
এখন নাকি গতি ছাড়া ‘গতি নেই’। গতিশীল দুনিয়ায় গতির সাথে পাল্লা দিয়ে গতি বাড়ালেই অপার সুখ। পৃথিবীর সমস্ত সুখকে হাতের মুঠোয় না নিতে পারলে, জীবন তখন ব‍্যর্থ। তাই ‘করলো দুনিয়া মুঠ্ঠি মে’।
দুনিয়ার এতো সুখ মুঠোয় নিয়ে, আমি বেশ সন্ত্রস্ত বোধ করছি। মুঠো খুললেই সুখ উড়ে যাওয়ার ভয়! প্রশ্ন জাগে, মুঠোভরা সুখ না ওটা বাস্তবে মুঠোভরা শঙ্কা !
লঝঝরে সাইকেলটায় জং ধরেছে। ঝেড়েপুছে হাওয়া ভরে ঐ সাইকেলে সওয়ার হয়ে একবার পুরনো রাস্তাটায় টহল দিলে কেমন হয়!
ফেলে আসা আনন্দগুলোকে মুঠো ভরে কুড়িয়ে আনি। আর মুঠো খুলে ভাগ করে নিই আনন্দটুকু। ধরা থাক স্মৃতি সুধায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *