অকপট অনিমেষ

Please follow and like us:
0

অনিমেষ শাস্ত্রী

আমার চেম্বারের কেউ জানে না, আমি চেম্বারে সশরীরে পৌঁছনোর আগেই অদৃশ্য ভাবে পৌঁছে যাই সেখানে।
কীভাবে পৌঁছোই?
আমার মন পৌঁছে যায়।
নতুন কিছু বললাম নাকি? শুনে তোমাদের নতুন মনে হতে পারে, আসলে নতুন কিছু নয়। আমি যতদূর জানি, তোমরাও কাজের জায়গায় পৌছনোর আগে মনে মনে সেখানে অনেকেই পৌঁছে যাও। স্কুলেও তাই হতো। বিশেষ করে মনে করে দেখো, পরীক্ষার দিন গুলোতে আমরা সবাই স্কুলে আগে পৌঁছোতাম। আর মনে মনে পৌঁছে যেতাম ভোর বেলায়, ঘুম থেকে উঠেই। তবে দূর্ভাগ্যবশত হাজার চেষ্টা করেও প্রশ্নপত্রটি পড়ে নেওয়া যেত না, যতক্ষণ না ওই কঠিন ও দূর্বিসহ এক দু পাতার ‘প্রায় যমদূত’ এসে হাজির হতো। (যে যতই পড়াশোনায় ভাল হও না বাপু, কোশ্চেন পেপার মানেই কিন্তু ‘প্রায় যমদূত’)
কারখানার মালিক মনে মনে আগে পৌঁছয়, কারখানার শ্রমিকও মনে মনে সময়ের আগে পৌঁছয়। আসলে গোটা দুনিয়ায়, মোটামুটি সবাই সশরীরে অকুস্থলে বা কাজের জায়গায় পৌঁছে যাওয়ার আগে পৌঁছয় মনে মনে।
কিন্তু তারপর কী?
কারখানার মালিক মনে মনে শুধু পৌঁছে যায় বললেই হবে না, যেতে যেতে, প্রতি মুহুর্তে কিন্তু কাজের ভাবনা চিন্তার মধ্য দিয়েই যায়। নিজের নির্দিষ্ট কাজের থেকেও একটু বেশি হলে ক্ষতি কী? আমি অন্তত তাইই করার চেষ্টা করি।
এই যে কাজের কাজটা করার পরেও অতিরিক্ত আরো একটু কাজ করে ফেলার প্রবণতা, এটাই অন্যের থেকে তোমাকে এক কদম এগিয়ে রাখবে।
সাফল্যের অন্যতম শর্ত হলো নিজেকে ছাপিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা। নিজের ১০০ শতাংশ অধিকাংশ মানুষই দিতে পারে না। এই ১০০ শতাংশ মানে কতটা, এটা জাজ করাটা প্রথম ব্যাপার। নিজেকে অ্যাসেস করা কিন্তু তোমার অন্যতম জরুরী কাজ। আমি কতটা কি করতে পারি, এটা শুধু ভাবলে হয় না, কাজ করার সময় পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেকে পালটে নেওয়া একটা অতি প্রয়োজনীয় গুণ।
ভেবে দেখো, তোমাকে কী কেউ কোনদিন বলেছে যে, তুমি সরো, তোমার হয়ে কাজটা করে দিচ্ছি।
কেউ বলেছে?
যদি কেউ বলে থাকে, ব্যস, আর বলতে দিও না। কারণ যে তোমাকে এটা বলছে, সে আসলে বলতে পারছে। মানে নিজের কাজ শেষ করেও সে তোমার কাজটা করে দেওয়ার দম রাখে। সে বিজয়ী। তুমি কী বিজয়ীর বন্ধু হয়েই থাকতে চাও? জীবনে একজন বিজয়ী বন্ধু পাশে আছে এটা ভেবে নিশ্চিন্তে ঘুমতে যেতে চাও?
নাকি, আমাদের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এ পি জে আব্দুল কালামের সেই অমর উক্তিটি নিজের জীবনে প্রয়োগ করতে চাও? ‘স্বপ্ন সেটা নয় যা আমরা ঘুমিয়ে দেখি / স্বপ্ন সেটাই যা আমাকে ঘুমোতে দেয় না।‘ তোমার বিজয়ী বন্ধুর সাহচর্য ভাল, তার থেকেও ভাল স্বপ্নের জন্য বিনিদ্র থাকা।
সেটাই চেষ্টা করো।
সুন্দর একটা ঘুম, পরের দিনের কাজের এনার্জি জোগায়। সুন্দর ঘুমোও, তবে স্বপ্নের জন্য বিনিদ্র হও জীবনের একটা সময়!!!!!!!!!!!!!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *