কু-কথায় পঞ্চমুখ / কণ্ঠে ভরা বিষ

Please follow and like us:
0

রোজনামচা ডট কমঃ ই ভি এম বিকলের ঘটনা দিয়ে শুরু হয়ে গেছে লোকসভা ভোটের ২য় পর্ব। তবে ভোট-রঙ্গে ২০১৯এর লোকসভা নির্বাচন কু-কথার জন্য যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠতে শুরু করেছে, এ নিয়ে সন্দেহ নেই।

সাধারণত পাড়ার মোড়ে চায়ের ঠেকে যে রসিকতা চিরকাল হয়ে এসেছে, তা ততক্ষণই নির্দোষ যতক্ষণ সেই রসিকতা ওই ঠেকেই নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। সোসাল মিডিয়া তথা প্রত্যেকে রিপোর্টারি করার সুলভ সুযোগ হাতে এসে যাওয়ার পর পাড়ার মোড়ের রসিকতা এখন ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। ফেসবুকে এমন জাহির করার সহজ ও সুলভ সুযোগ কে আর হাত ছাড়া করতে চায়। ফলে সেখানে মাত্রাছাড়া বাজে বিদ্রুপ এখন রোজই, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জনকে নিয়ে।

আগে ফিল্ম জগতের গসিপ নিয়ে যে ফিসফাস গুজব পল্লবিত হতো, সে দিন গত। এখন ওই একই গসিপ তথা ‘শোনা’ বা ‘বানানো কথা” নিয়ে ফেসবুকে সোল্লাসে নিজের মত জানান সাধারন মানুষ।

সোজা কথায় মাত্রাছাড়া মত জানানোর ‘অধিকার’ এখন হাতের মুঠোয়।

রাজনীতির মঞ্চের নেতানেত্রীও কোনও মঙ্গল গ্রহ থেকে আসেন নি। তাছাড়া রাজনৈতিক কারণে তারা আরো অনেক বেশি ক্ষমতাবান। সুতরাং তাদের ‘অধিকার’এর জোর আরো মারাত্মক। একটি উদাহরণ দিলে বোঝা যাবে।

এবিপি আনন্দের সান্ধ্য নাটক তথা খেউড়বাজির ঠেকে বড় নাম সায়ন্তন বসু। টিভির পর্দায় নেতা হয়ে ওঠা সায়ন্তন এই ভোটে বসিরহাটের বিজেপি প্রার্থী। প্রথম দিন থেকেই ‘আগুনখোর’ বক্তৃতা দিয়ে চলেছেন। কানহাইয়া কুমারের মতো যুক্তিবাদী কথা বলার মেধা নেই তার। সায়ন্তন ও পথে যাচ্ছেনও না। তিনি সরাসরি বিপক্ষের বুকে গুলি করার কথা বলে যাচ্ছেন।

নির্বাচন কমিশন কু-কথার স্রোত থামানোর কোনও চেষ্টা করেছেন এমন অপবাদ তাদের কেউ দেবে না। সুপ্রীম কোর্টের ধমকের পর চার জনকে তারা দুই ও তিনদিনের জন্য ‘বসাতে’ পেরেছেন। ঠগ বাছতে গাঁ উজার হয়ে যাবে অবশ্য। এই ঠগ বাছার কাজটা কতটা সুষ্ঠু ভাবে নির্বাচন কমিশন করতে পারে, তার ওপর আমাদের রাজনৈতিক আবহাওয়া কিন্তু নির্ভর করছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *